শ্রাবণের প্রথম সোমবার জল্পেশ মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আগমন ঘিরে জোর প্রস্তুতি, পুণ্যার্থীদের জন্য একাধিক বিশেষ উদ্যোগ

আগামী ২০ জুলাই, শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার, জলপাইগুড়ি জেলার ঐতিহ্যবাহী জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিতে আসবেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুধু মুখ্যমন্ত্রীর সফরই নয়, শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারকে কেন্দ্র করে জল্পেশ মন্দিরে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একাধিক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
জল্পেশ মন্দির উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় শিবমন্দির। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় এই মন্দিরে। বিশেষ করে শ্রাবণের প্রথম সোমবারে ভক্তদের ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, সুবিধা এবং নির্বিঘ্নে দর্শনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে হেলিকপ্টার থেকে জল্পেশ মন্দির চত্বরে পুষ্পবৃষ্টির আয়োজন। প্রশাসনের দাবি, এই বিশেষ উদ্যোগ ভক্তদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে এবং শ্রাবণী মেলার আকর্ষণ আরও বাড়াবে। এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুষ্পবৃষ্টির আয়োজন হলেও জল্পেশ মন্দিরে এই উদ্যোগ প্রথম বার।

পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে দোমোহনী তিস্তা ঘাট থেকে জল সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ বছর কোনো প্রবেশমূল্য নেওয়া হবে না। প্রতি বছর অসংখ্য ভক্ত তিস্তা নদী থেকে পবিত্র জল সংগ্রহ করে জল্পেশ মন্দিরে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করেন। এবার সেই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছন্দ করতে প্রবেশমূল্য সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।

এছাড়া মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে। এতে সাধারণ ভক্তদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, মেলা উপলক্ষে পর্যাপ্ত মেডিক্যাল ক্যাম্প, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, অস্থায়ী শৌচালয়, আলোকসজ্জা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি এবং কন্ট্রোল রুম থেকেও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে।

দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের জন্য যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনো ধরনের যানজট বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখবে প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জল্পেশ মন্দির সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলেও যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁর সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন এবং বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জল্পেশ মন্দিরের শ্রাবণী মেলা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশও বটে। প্রতি বছর এই মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই সময় উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পান। তাই মেলার সুষ্ঠু আয়োজন স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানানো হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে দর্শন করতে, নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশ অনুসরণ করতে এবং কোনো গুজবে কান না দিতে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

শ্রাবণের প্রথম সোমবার জল্পেশ মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধর্মীয় আবহ, বিশেষ আয়োজন এবং প্রশাসনের উদ্যোগে এবারের শ্রাবণী মেলা আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ