মণিপুরের উখরুলে জঙ্গি হামলা: অসম রাইফেলসের দুই জওয়ান নিহত, তল্লাশি অভিযান শুরু

ইম্ফল: মণিপুরে ফের নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গিদের অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের উখরুল জেলায় ৪০ আসাম রাইফেলসের একটি কনভয়ের ওপর হামলায় দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ওয়ারেন্ট অফিসার বলবন্ত সিং এবং হাবিলদার চন্দ্র মোহন সিং। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুলাই দুপুর প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে ৪০ আসাম রাইফেলসের একটি কনভয় উখরুল জেলার শাংশাকে অবস্থিত তাদের ঘাঁটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথে জঙ্গিরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় দুই জওয়ান গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
নিহত ওয়ারেন্ট অফিসার বলবন্ত সিং এবং হাবিলদার চন্দ্র মোহন সিং দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁদের এই মৃত্যুতে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

হামলার পরপরই উখরুল পুলিশ এবং আসাম রাইফেলস যৌথভাবে এলাকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলে সম্ভাব্য হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান চালানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজও জোরদার করা হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত কোনো জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মণিপুরে গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জাতিগত সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং বিচ্ছিন্ন সহিংসতার কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান চালাতে হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। উখরুল জেলা দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীকেই নয়, সমগ্র অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করে। তাই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কনভয় চলাচলের রুট এবং সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে এলাকায় আরও অভিযান চালানো হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে অনেক সংগঠনের কার্যকলাপ কমেছে, তবুও বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঘটনা এখনও ঘটছে। ফলে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

উখরুলের এই হামলা আবারও প্রমাণ করল যে মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে হামলার উদ্দেশ্য, জড়িত গোষ্ঠী এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ