নিজের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ইউরোপে তাপপ্রবাহ হলে বিশ্বজুড়ে সহানুভূতি দেখা যায়, কিন্তু ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কেন সেটিকে ব্যর্থতা বা পশ্চাদপদতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়?”
তিনি জানান, বর্তমানে পোল্যান্ড-সহ ইউরোপের একাধিক দেশে ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা, স্কুল বন্ধ, রাস্তাঘাট ও রেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অথচ ভারতের বহু অঞ্চলে প্রতি বছর ৪০–৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও আন্তর্জাতিক আলোচনায় ভারতকে প্রায়ই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, অতীতে মুম্বইয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সমুদ্রসৈকতে ঘুমিয়ে থাকা মানুষের ছবি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উপহাস করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানুষ গরম থেকে বাঁচতে পার্ক বা খোলা জায়গায় রাত কাটালেও তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো হচ্ছে। তাঁর মতে, “সহানুভূতি সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।”
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর উদ্দেশ্য ভারতের সমস্যাগুলি অস্বীকার করা নয়। বরং তিনি চান, ভারতের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি উন্নয়ন ও সাফল্যগুলিও যেন সমান গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের কোনো দেশই এখন আর নিরাপদ নয় এবং প্রতিটি দেশের মানুষের দুর্ভোগকে সমান মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত।
পোলিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তাঁর মতকে সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও জলবায়ু সংকটের উপস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, যে কোনো দেশের দুর্যোগকেই তুলনা না করে সমান সহানুভূতির সঙ্গে দেখা উচিত

0 মন্তব্যসমূহ