সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে আসে, শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণমূলক কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত কিছু বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের সামনে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে মেটাকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রকের পাঠানো নোটিসে সংস্থার কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, কীভাবে এত সংবেদনশীল ও বেআইনি কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের নজরদারি এড়িয়ে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশিত হল। বিজ্ঞাপন অনুমোদনের সময় কোন স্তরে ত্রুটি ছিল, তা-ও জানতে চেয়েছে সরকার। পাশাপাশি বর্তমানে আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, সেই ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন শোষণ বা নির্যাতনমূলক কোনও কনটেন্টের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির দায়িত্ব শুধু ব্যবহারকারীদের যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়া নয়, বরং তাদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করাও। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার মতো বড় সংস্থার নিজস্ব কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং মানব পর্যালোচক দল রয়েছে। কোনও বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে তা একাধিক স্তরে যাচাই করার কথাও। ফলে অভিযোগ সত্য হলে এত বড় প্ল্যাটফর্মে কীভাবে শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রচারিত হল, তা স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির উপর নির্ভর না করে মানব পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
কেন্দ্রের দাবি, শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিশুদের শোষণ বা নির্যাতনকে কোনওভাবেই ব্যবসার হাতিয়ার বানাতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে মেটার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাকে নোটিস পাঠিয়েছিল তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। সরকারের আশঙ্কা ছিল, ওই ফিচারের অপব্যবহার করে ভুয়ো পরিচয় তৈরি, পরিচয় জালিয়াতি এবং সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেই কারণে সরকারের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন ফিচার চালু না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এবার ইনস্টাগ্রামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর কেন্দ্রের নজর মেটার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সাত দিনের মধ্যে সংস্থাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে, কীভাবে এই ধরনের কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে পৌঁছল, বর্তমানে তা সরাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য কী ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকারের এই কড়া অবস্থানের পর মেটার জবাব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

0 মন্তব্যসমূহ