বিশ্বকাপে রোনাল্দো-যুগের অবসান, চোখের জলে বিদায় পর্তুগিজ মহাতারকার

ডালাস: শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। অন্যদিকে ডালাসের স্টেডিয়ামে নেমে আসে গভীর বিষণ্ণতা। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে হারার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেল পর্তুগালের অধিনায়ক -এর বিশ্বকাপ অধ্যায়। নিজের ষষ্ঠ এবং শেষ বিশ্বকাপ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই কিংবদন্তি ফুটবলার। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন রোনাল্দো।
 দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য এলেও এবার অধরা থেকে গেল বিশ্বকাপ শিরোপা। শেষ ম্যাচ শেষে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকার পর চোখের জলেই বিদায় জানান বিশ্বকাপকে। স্পেনের কাছে শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গ ৪১ বছর বয়সেও বিশ্বমঞ্চে নিজের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন রোনাল্দো। ম্যাচের আগেই জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তাই শেষবারের মতো স্মরণীয় কিছু করার লক্ষ্য ছিল তাঁর। শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনটি শট নিলেও গোলের দেখা পাননি। সতীর্থদের কাছ থেকেও পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি তিনি। ইনজুরি টাইমে -র জয়সূচক গোলে জয় তুলে নেয় স্পেন। আর তাতেই শেষ হয়ে যায় রোনাল্দোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

  আবেগঘন বিদায় 
 ম্যাচ শেষে বাস্তবতা মেনে নিয়ে প্রথমে স্পেনের তরুণ তারকা -কে জড়িয়ে ধরেন রোনাল্দো। প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান এবং হাত মেলান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়েন পর্তুগিজ অধিনায়ক। সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেন, আর গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকেরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে বিদায় জানান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকাকে। ফিরল ২০২২ সালের স্মৃতি চোখে জল নিয়েই শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চ ছাড়েন রোনাল্দো। টানেলে ফেরার সময় তাঁর আবেগঘন মুহূর্ত অনেকের মনে ফিরিয়ে আনে ২০২২ বিশ্বকাপের সেই দৃশ্য, যখন পরাজয়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। 

  বিশ্বকাপে রোনাল্দোর পরিসংখ্যান
 বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয়টি আসরেই গোল করার একমাত্র পুরুষ ফুটবলার রোনাল্দো। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৬টি ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন। 

  বিশ্বকাপে রোনাল্দোর পারফরম্যান্স - 
২০০৬: ৬ ম্যাচ, ১ গোল (পর্তুগাল চতুর্থ) - 
২০১০: ৪ ম্যাচ, ১ গোল, ১ অ্যাসিস্ট (শেষ ষোলো) - 
২০১৪: ৩ ম্যাচ, ১ গোল, ১ অ্যাসিস্ট (গ্রুপ পর্ব) - 
২০১৮: ৪ ম্যাচ, ৪ গোল (শেষ ষোলো) - 
২০২২: ৫ ম্যাচ, ১ গোল (কোয়ার্টার ফাইনাল) -
 ২০২৬: ৪ ম্যাচ, ৩ গোল (শেষ ষোলো)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ