জার্মান পর্যটকের দাবি, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা কোনো বিলম্ব না করে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করেন এবং রেবিস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন ও অন্যান্য চিকিৎসা শুরু করেন। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ছিল, এই চিকিৎসার জন্য তাঁর কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।
ভিডিওতে ওই পর্যটক বলেন, জার্মানিতে একই ধরনের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল হতে পারে অথবা স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভর করে। ভারতের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এত দ্রুত চিকিৎসা পেয়ে তিনি বিস্মিত হন এবং ভারতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, সীমিত পরিকাঠামি ও বিপুল রোগীর চাপের মধ্যেও দেশের বহু সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষ ও বিদেশি নাগরিকদের জরুরি চিকিৎসা দিয়ে চলেছে।
অন্যদিকে, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর মতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও পথকুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলাতঙ্কের ঝুঁকি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাঁদের মতে, শুধু চিকিৎসার প্রশংসা করলেই হবে না, পথকুকুর নিয়ন্ত্রণ, টিকাকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মানুষকে কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী কামড়ালে ঘটনাটিকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আক্রান্ত স্থান দ্রুত সাবান ও পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন এবং রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন দেওয়া হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এই ঘটনা ভারতের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ