জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে জমি-জট কাটায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে গতি, স্বস্তিতে স্থানীয়রা

নিউজ বাংলা প্লাস : জলপাইগুড়ি: দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হওয়ায় জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বড়বাড়ি এলাকায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজে নতুন গতি এসেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরে আটকে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের জমি সংক্রান্ত সমস্যা মিটে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট জমি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্ত সুরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।


সূত্রের খবর, রাজগঞ্জের মদনবাড়ি এলাকায় প্রায় ৩১২ মিটার অংশে জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ থমকে ছিল। জমির মালিকানা, অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। সম্প্রতি সেই সমস্যার সমাধান হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই নির্মাণকাজে গতি এসেছে বলে জানা গেছে।

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে দীর্ঘদিন ধরেই ধাপে ধাপে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু ও অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সীমান্ত-সংক্রান্ত অপরাধ রোধে এই বেড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে কেন্দ্রীয় সরকার ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, সীমান্ত সড়ক এবং আলোকসজ্জার পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়া সীমান্ত সুরক্ষার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, বহুদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এখন সমস্যা মিটে যাওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার হলে অপরাধমূলক কার্যকলাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও বৃদ্ধি পাবে।

তবে স্থানীয় কৃষকদের একাংশের দাবি, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি কৃষিজমিতে যাতায়াত, চাষাবাদের সুবিধা এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই সীমান্তের কাছাকাছি কৃষিজমিতে পৌঁছতে বিশেষ অনুমতি বা নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন তাঁরা।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বার্থ যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। জমি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে নজরদারি আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি সীমান্ত টহল, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এর ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যাতায়াত বা চোরাচালানের মতো কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজগঞ্জ ব্লকের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। ফলে সেখানে অসমাপ্ত থাকা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জমি-সংক্রান্ত জটিলতা দূর হওয়ায় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।

এদিকে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি। নির্মাণকাজ যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায় এবং কোনও নতুন সমস্যা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে তাঁদের প্রয়োজন ও সমস্যার বিষয়েও প্রশাসন অবগত থাকার চেষ্টা করছে।

স্থানীয়দের আশা, বহু প্রতীক্ষিত এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন সীমান্ত নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তারও অবসান ঘটবে। নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই সীমান্ত অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে এগোবে প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা সীমান্তবাসীদের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ