শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরে ফের জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে কুলগাম জেলার একটি ইটভাটায়। হামলার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনায় নতুন করে উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলগাম জেলার একটি ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা আচমকা গুলি চালায়। আকস্মিক হামলায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নিহত ও আহত দু'জনই জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা নন। তাঁরা অন্য রাজ্য থেকে কাজের সন্ধানে এসে ওই ইটভাটায় কর্মরত ছিলেন। নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। আশপাশের বনাঞ্চল ও সম্ভাব্য পালানোর পথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার দায় এখনও কোনও জঙ্গি সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ প্রশাসন।
এই ঘটনার পর পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপত্যকায় নির্মাণ, ইটভাটা, কৃষি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বহু শ্রমিক দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসে কাজ করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন শ্রমিকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচ্ছিন্ন জঙ্গি হামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করার চেষ্টা করা হতে পারে। সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, শিল্পাঞ্চল এবং শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহলও বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহল থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন নেতা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে নিহত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহত শ্রমিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রুখতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
জম্মু-কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও, এই হামলা আবারও প্রমাণ করল যে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ