আজ থেকে শুরু জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম ধাপ, বাড়িতে বসেই অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ

কলকাতা, ১ আগস্ট: আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম ধাপ। এবারের জনগণনায় প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে Self-Enumeration (স্ব-গণনা) ব্যবস্থা। এর ফলে ইচ্ছুক নাগরিকরা আর গণনাকর্মীর জন্য অপেক্ষা না করে বাড়িতে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। এই উদ্যোগকে জনগণনার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনারের কার্যালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার লক্ষ্য জনগণনার তথ্য সংগ্রহকে আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ করে তোলা। অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার জন্য সরকার Self-Enumeration Portal চালু করেছে। সেখানে নাগরিকদের প্রথমে সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপি (OTP) যাচাই করে লগইন করার পর পরিবারের সদস্যদের তথ্য, বাসস্থানের বিবরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত ফর্মে পূরণ করতে হবে।

সমস্ত তথ্য সফলভাবে জমা দেওয়ার পর আবেদনকারী একটি Self-Enumeration ID (SE ID) পাবেন। এই আইডি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরবর্তী পর্যায়ে গণনাকর্মীরা বাড়িতে এলে ওই SE ID-এর মাধ্যমে অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করবেন। ফলে একই তথ্য পুনরায় দেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

সরকারি সূচি অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে অনলাইন Self-Enumeration পর্ব। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত শুরু হবে House Listing & Housing Census বা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রথম ধাপ। এই সময় প্রশিক্ষিত গণনাকর্মীরা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে তথ্য যাচাই ও সংগ্রহ করবেন। যারা অনলাইনে তথ্য জমা দেবেননি, তাঁদের তথ্য সরাসরি গণনাকর্মীরাই নথিভুক্ত করবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণনা কেবল জনসংখ্যা গণনার কাজ নয়; বরং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, পরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নে জনগণনার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নির্ভুল তথ্য প্রদান অত্যন্ত জরুরি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, অনলাইনে বা গণনাকর্মীর কাছে তথ্য দেওয়ার সময় যেন সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হয়। এতে ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার জনগণনার এই প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তুলেছে। সরকারের আশা, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণনা ২০২৭ সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ