স্থানীয় সূত্রের দাবি, দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে সরকারি স্তরে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থাপনা কিংবা কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, বাহরিনে সাইরেন বাজানোর পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশের নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনাগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে। বাহরিনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর থাকায় যে কোনও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব সেখানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনা, সামরিক ঘাঁটি বা মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে কোনও ধরনের হামলা হলে তার “মূল্য চুকাতে হবে”। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ এবং মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক বহু বছর ধরেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামরিক জোটের প্রশ্ন।
এই উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তেলের দামে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

0 মন্তব্যসমূহ