সোনম ওয়াংচুকের বাড়িটি লাদাখের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। বাড়ির মোটা মাটির দেয়াল, বড় কাচের জানালা এবং প্যাসিভ সোলার ডিজাইনের মাধ্যমে দিনের সূর্যের তাপ ঘরের ভিতরে সঞ্চিত থাকে। সেই তাপ রাতেও ধীরে ধীরে নির্গত হওয়ায় বাইরে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলেও ঘরের ভেতর আরামদায়ক পরিবেশ বজায় থাকে। এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ বা জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর হিটারের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যায়।
বাড়ির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর পরিবেশবান্ধব টয়লেট ব্যবস্থা। সাধারণ ফ্লাশ টয়লেটের পরিবর্তে এখানে ব্যবহৃত হয় জলবিহীন কম্পোস্টিং টয়লেট। এই ব্যবস্থায় জল অপচয় হয় না। কাঠের গুঁড়ো বা মাটি ব্যবহার করে বর্জ্যকে গন্ধমুক্ত রাখা হয় এবং পরে তা প্রাকৃতিক উপায়ে জৈব সারে পরিণত হয়। জলস্বল্প লাদাখ অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়।
সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরেই টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তির পক্ষে কাজ করে আসছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত SECMOL ক্যাম্পাসও একই ধরনের প্যাসিভ সোলার নীতিতে নির্মিত, যেখানে রান্না, আলো ও গরম রাখার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত। তাঁর লক্ষ্য, স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে কম খরচে এমন ভবন তৈরি করা, যা পরিবেশবান্ধব এবং শক্তি-সাশ্রয়ী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের নির্মাণ প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাতে পারে। শক্তি সাশ্রয়, জল সংরক্ষণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের বাড়ি একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে সোনম ওয়াংচুকের বাড়ির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগী নকশা অনুসরণ করে এমন শক্তি-সাশ্রয়ী বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ বাড়ানো উচিত।

0 মন্তব্যসমূহ