গ্লাসগো: কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে ফের ইতিহাস গড়লেন ভারতের তারকা ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু। ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে টানা তৃতীয়বার এই সাফল্য অর্জন করলেন তিনি। একইসঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে একাধিক কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন ভারতের এই তারকা ক্রীড়াবিদ। তাঁর হাত ধরেই ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনা এল।
রবিবার গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত মহিলাদের ৪৮ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে শুরুটা অবশ্য মীরাবাইয়ের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। স্ন্যাচ বিভাগে প্রথম প্রচেষ্টায় ৮২ কেজি তুলতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্রুত ছন্দে ফিরে আসেন অভিজ্ঞ এই ভারোত্তোলক। এরপর ৮৫ কেজি ওজন তুলে স্ন্যাচে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন তিনি।
এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগেও নিজের শক্তি ও দক্ষতার পরিচয় দেন মীরাবাই। তিনি ১০৫ কেজি ওজন তোলেন। এই পারফরম্যান্সের ফলে তাঁর মোট ওজন দাঁড়ায় ১৯০ কেজি। স্ন্যাচ, ক্লিন অ্যান্ড জার্ক এবং মোট ওজন—তিন ক্ষেত্রেই রেকর্ড গড়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। রুপোজয়ী নাইজেরিয়ার রুথ আসুকুও নিয়ং মোট ১৬৮ কেজি ওজন তোলেন। ফলে মীরাবাইয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর ব্যবধান ছিল ২২ কেজি।
এই জয় মীরাবাই চানুর কেরিয়ারে আরও একটি বড় মাইলফলক। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের পর ২০২২ সালের বার্মিংহাম গেমসেও তিনি সোনা জিতেছিলেন। এবার ২০২৬ সালের গ্লাসগো গেমসে তৃতীয়বারের জন্য সোনা জিতে টানা তিনটি কমনওয়েলথ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়লেন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালের কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদক জিতেছিলেন মীরাবাই।
মীরাবাইয়ের এই সাফল্য ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারোত্তোলনে তাঁর ধারাবাহিকতা ও সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিযোগিতার শুরুতে একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর যেভাবে তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে পরপর রেকর্ড গড়েছেন, তা তাঁর মানসিক দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতারই পরিচয়।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু নিজের পদকের তালিকাই আরও সমৃদ্ধ করলেন না, ভারতকেও ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে সোনার পদকের স্বাদ এনে দিলেন মীরাবাই চানু। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফের প্রমাণিত হল, আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলনের মঞ্চে ভারতের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ তিনি। টানা তিনটি কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের এই ঐতিহাসিক সাফল্য নিঃসন্দেহে তাঁর ক্রীড়াজীবনের অন্যতম সেরা অধ্যায় হয়ে থাকবে।

0 মন্তব্যসমূহ