নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: একবিংশ শতাব্দীতেও কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে মুক্ত হতে পারেনি সমাজের একাংশ। ডাইনি অপবাদ দিয়ে আদিবাসী এক মহিলাকে প্রকাশ্যে মারধর ও জুতোপেটা করার অভিযোগ উঠেছে মালদা জেলার ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি গ্রামে। ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে গ্রামের কয়েকজন মোড়ল ও মাতব্বরকে। নির্যাতিত দম্পতি বর্তমানে প্রাণভয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামছাড়া। ইতিমধ্যেই মালদা থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে নির্যাতিতার পরিবার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই আদিবাসী মহিলা ও তাঁর স্বামীকে ডেকে গ্রামের মানুষের সামনে বসান। অভিযোগ, এরপর তাঁদের উপর বেধড়ক মারধর করা হয় এবং জুতোপেটাও করা হয়। নির্যাতিতাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর ভাইকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি ওই দম্পতির সন্তানদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। পরে তাঁদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে মালদা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতিত দম্পতিকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তাঁরা নিজেদের গ্রামে ফিরতে না পেরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, গ্রামে ফিরে গেলে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণে বাধ্য হয়েই তাঁরা এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে মালদা থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক গোপাল সাহা বলেন, "আদিবাসী মহিলাকে ডাইনি সন্দেহে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। বিষয়টি জানার পর আমি গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারটিকে নিরাপত্তা দিয়ে তাঁদের নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।"
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে সমাজে কুসংস্কারের প্রভাব এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা। মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের মতে, আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও ডাইনি অপবাদের নামে এ ধরনের নির্যাতন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্যাতিত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

0 মন্তব্যসমূহ