হাইড্রোজেন ট্রেনের যুগে ভারতের প্রবেশ, জিন্দ থেকে যাত্রা শুরু দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব রেল পরিষেবার

নিউজ বাংলা প্লাস: ভারতীয় রেলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল আজ। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ স্টেশন থেকে এই বিশেষ ট্রেনের যাত্রার সূচনা হয়। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সবুজ ও টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র সরকার এবং রেল মন্ত্রক।



রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত প্রায় ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে চলাচল করবে। পথে গোহানা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ট্রেনটির স্টপেজ থাকবে। এই রুটটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হল উত্তর ভারতের এই অঞ্চলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের জন্য এটি একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র বলে মনে করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, আগামী দিনের ভারত প্রযুক্তি ও পরিবেশ রক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, “বিশ্ব যখন দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন ভারত পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। হাইড্রোজেন ট্রেন সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের মূল বৈশিষ্ট্য হল, এতে প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি। এই ফুয়েল সেলের মাধ্যমে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা ট্রেনকে চালানোর শক্তি জোগায়। এর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন প্রায় হয় না। ট্রেনটি চলার সময় মূলত জলীয় বাষ্পই নির্গত হয়, যা একে পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার অন্যতম উদাহরণে পরিণত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে ইতিমধ্যেই হাইড্রোজেন ট্রেনের ব্যবহার শুরু হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স এবং জাপানের মতো দেশগুলির পর এবার ভারতও সেই তালিকায় নাম লেখাল। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার ও সবুজ প্রযুক্তির প্রসারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী দিনে দেশের একাধিক অ-বিদ্যুতায়িত রুটে ধাপে ধাপে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল এবং দূরবর্তী এলাকায়, যেখানে বিদ্যুতায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে কঠিন, সেখানে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে ডিজেলের ব্যবহার কমলে রেলের জ্বালানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গণপরিবহণ ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সেই দিক থেকে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থার দিকনির্দেশক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

ভারতীয় রেলের এই নতুন উদ্যোগ আগামী দিনে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সবুজ শক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিবেশ রক্ষার সমন্বয়ে হাইড্রোজেন ট্রেন ভারতের রেল পরিষেবাকে এক নতুন যুগে পৌঁছে দিল বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ