হুগলির ফুচকার জলে ই-কোলাই ও কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান, স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ প্রশাসনের

হুগলি: বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড ফুচকা এবার জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। হুগলির খানাকুল এলাকায় বিভিন্ন ফুচকা বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করা জলের নমুনা সরকারি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে ই-কোলাই (E. coli) এবং কলিফর্ম (Coliform) ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া দূষিত জল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ইঙ্গিত দেয় এবং তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের উদ্যোগে বিএমওএইচ-এর মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন ফুচকা বিক্রেতার কাছ থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই নমুনাগুলি সরকারি পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে মোট চারটি নমুনার প্রায় সবকটিতেই বিপজ্জনক মাত্রায় ই-কোলাই ও কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরীক্ষার রিপোর্টে ওই জলকে 'অসুরক্ষিত' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের মতে, রাস্তার খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে না মানাই এই দূষণের অন্যতম কারণ। অভিযোগ, অনেক বিক্রেতা অপরিষ্কার হাতেই আলুর পুর তৈরি করেন এবং একই হাত দিয়ে টক জলে মশলা মেশান। আবার টাকা লেনদেনের পর হাত না ধুয়েই খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়া টক জলের পাত্র ঢেকে না রাখার ফলে বর্ষার সময় বৃষ্টির জল মিশে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। পুদিনা, ধনেপাতা ও অন্যান্য উপকরণ ভালোভাবে পরিষ্কার না করা এবং দীর্ঘক্ষণ খোলা জায়গায় আলুর মিশ্রণ রেখে দেওয়াও দূষণের ঝুঁকি বাড়ায়।
সরকারি পরীক্ষাগারের ব্যাকটেরিওলজিস্টদের মতে, ই-কোলাই ও কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া-যুক্ত দূষিত জল গ্রহণ করলে ডায়রিয়া, বমি, পেটের সংক্রমণ, জ্বর, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ আরও গুরুতর আকার নিতে পারে।

রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ফুচকা বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে ফুচকার টক জল তৈরিতে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ বা মিনারেল ওয়াটার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ জানান, ভবিষ্যতে ফুচকা বিক্রেতাদের একটি নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় এনে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে সবাই উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “মানুষ অজান্তেই দূষিত জল খাচ্ছেন। তাই নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফুচকা বিক্রি করতে হবে এবং টক জল অবশ্যই মিনারেল ওয়াটার দিয়ে তৈরি করা উচিত।” একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে রাস্তার খাবার কেনার আগে পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবহৃত জলের মান সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফুচকা নয়, অন্যান্য রাস্তার খাবারের ক্ষেত্রেও নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি বিক্রেতাদের সচেতনতা এবং ক্রেতাদের সতর্কতাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ