পাহাড়ি রাস্তায় বাইক চালানোর নিয়ম না জানলেই বিপদ! আপহিল ও ডাউনহিলে কী করবেন, কী করবেন না

নিউজ বাংলা প্লাস : পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পাহাড়ি রাস্তায় মোটরবাইক চালানোর সংখ্যাও। তবে সমতলের মতো পাহাড়ি পথে বাইক চালানো মোটেও নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপহিল (পাহাড়ে ওঠা) ও ডাউনহিল (পাহাড় থেকে নামা) পথে সঠিক কৌশল না জানলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাহাড়ে ওঠার সময় সবসময় কম গিয়ারে বাইক চালানো উচিত। সাধারণত প্রথম বা দ্বিতীয় গিয়ারে ইঞ্জিনের টর্ক বেশি পাওয়া যায়, ফলে খাড়া ঢাল সহজে অতিক্রম করা সম্ভব হয়। মাঝপথে অকারণে থেমে যাওয়া বা বারবার ক্লাচ চেপে রাখলে বাইকের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, পাহাড় থেকে নামার সময় শুধু ব্রেকের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক। দীর্ঘক্ষণ ব্রেক ব্যবহার করলে ব্রেক অতিরিক্ত গরম হয়ে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই ইঞ্জিন ব্রেকিং ব্যবহার করে কম গিয়ারে ধীরে ধীরে নামাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। পাশাপাশি সামনের ও পেছনের ব্রেক সমানভাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, ডাউনহিলে কখনও নিউট্রাল গিয়ারে বা ক্লাচ চেপে বাইক চালানো উচিত নয়। এতে বাইকের গতি দ্রুত বেড়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। পাহাড়ি বাঁকে প্রবেশের আগেই গতি কমাতে হবে এবং বাঁকের মধ্যে ওভারটেক করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

বর্ষাকালে বা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় পাহাড়ি রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং রাস্তার অবস্থা দেখে চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া যাত্রার আগে বাইকের ব্রেক, টায়ার, হেডলাইট ও হর্ন পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। চালকের পাশাপাশি আরোহীকেও মানসম্মত হেলমেট পরতে হবে। প্রয়োজনে গ্লাভস, জ্যাকেট ও হাঁটু রক্ষাকারী সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করলে দুর্ঘটনায় আঘাতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি রাস্তায় নিরাপদ ভ্রমণের মূল চাবিকাঠি হলো ধৈর্য, নিয়ন্ত্রিত গতি এবং সঠিক গিয়ার ব্যবহার। ট্রাফিক নিয়ম মেনে এবং সতর্কতার সঙ্গে বাইক চালালে পাহাড়ি সফর যেমন আনন্দদায়ক হবে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ