বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজ্যসভার টিকিট পেলেন সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশ

নিউজ বাংলা প্লাস : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল বৃহস্পতিবার। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার উপনির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করল গেরুয়া শিবির।



বৃহস্পতিবার কলকাতার সল্টলেকের বিজেপির রাজ্য দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিন নেতাকে দলে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলে এই যোগদানকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দলে যোগদানের পর সুখেন্দুশেখর রায় বিজেপির নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপির সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং নীতির প্রশংসা করে জানান, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিকাশে বিজেপি সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তিনি বিজেপির সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

প্রকাশ চিক বরাইকও বিজেপিতে যোগ দিয়ে দলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও আদিবাসী সমাজের স্বার্থে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানান।

তিন নেতার যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য তাঁদের নাম ঘোষণা করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যসভায় অভিজ্ঞ এবং পরিচিত মুখদের সামনে এনে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েছে বিজেপি।

বিশেষ করে সুখেন্দুশেখর রায় দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ ছিলেন এবং সংসদে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেব জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতেও তাঁর প্রভাব রয়েছে। প্রকাশ চিক বরাইকও সক্রিয় সাংসদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। 
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনে এই যোগদান এবং রাজ্যসভার উপ-নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আরও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে এই তিন প্রার্থীর মনোনয়ন কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলে এবং এর জবাবে তৃণমূল কংগ্রেস কী কৌশল নেয়।

বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম বড় রাজনৈতিক চমক হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ