উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্রেও দাপট! ভারতের ‘প্রচণ্ড’ হেলিকপ্টারের ক্ষমতা তাক লাগাচ্ছে বিশ্বকে

নিউজ বাংলা প্লাস: ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (LCH) ‘প্রচণ্ড’। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি এই অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারটি বিশেষভাবে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল এবং দুর্গম সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও নজরদারি অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
স্বদেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘প্রচণ্ড’-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, এটি প্রায় ৫,০০০ মিটার (১৬,৪০০ ফুটেরও বেশি) উচ্চতায় অস্ত্র ও জ্বালানি বহন করে সফলভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে সক্ষম। এই কারণে বিশ্বের উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত সিয়াচেন হিমবাহ এবং পূর্ব লাদাখের মতো এলাকায় এটি সফলভাবে অভিযান চালাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় সাধারণ হেলিকপ্টারের জন্য সেখানে অপারেশন চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ‘প্রচণ্ড’-কে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে তা এই প্রতিকূল পরিবেশেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে। ফলে সীমান্ত সুরক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনার কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই হেলিকপ্টারটিতে রয়েছে আধুনিক সেন্সর, উন্নত অ্যাভিওনিক্স ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বহনের ক্ষমতা। এটি ২০ মিমি টারেট গান, রকেট পড এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল বহন করতে সক্ষম। পাশাপাশি শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আঘাত হানার মতো ক্ষমতাও রয়েছে এতে।

তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত কিছু পোস্টে ‘প্রচণ্ড’-কে বিশ্বের একমাত্র অ্যাটাক হেলিকপ্টার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও কিছু হেলিকপ্টার উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। কিন্তু উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধ অভিযানের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এবং এমন পরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে ‘প্রচণ্ড’ বিশ্বের অন্যতম সেরা হেলিকপ্টার হিসেবে বিবেচিত হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ